আউটসোর্সিং কি? কিভাবে করতে হয় জানুন বিস্তারিত!

আউটসোর্সিং কি? কিভাবে করতে হয় জানুন বিস্তারিত!

স্বাধীন বা মুক্ত পেশার নাম হচ্ছে আউটসোর্সিং। স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে বা অন্যের চাপ ছাড়া স্বাধীন ভাবে কাজ করে আয় করার নাম হচ্ছে আউটসোর্সিং। আর যারা এই আউটসোর্সিং এর কাজ করে থাকে তাদের কে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার।

আউটসোর্সিং এ কি কি কাজ করা যায়?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট:
একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য কাজ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। ওডেস্কে প্রায় সবসময়ই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১০ হাজারের অধিক জব থাকে। ইল্যান্সের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের। তবে এ আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিজেকে কতটা দক্ষ করতে পারছেন, তার ওপর। একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অবশ্যই এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, জাভাস্ক্রিপ্ট, জেকোয়ারি, মাইএসকিউএলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে। এ বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখে শত শত কোটি ডলারের ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বাজারে যেকেউ প্রবেশ করতে পারেন।

কনটেন্ট রাইটিং:
একজন কনটেন্ট ডেভেলপারের অনেক কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হলো- কপিরাইটিং, বস্নগ লেখা, ওয়েব কনটেন্ট, প্রেস রিলিজ রাইটিং, ট্রান্সলেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সামারাইজেশন, রিজিউম রাইটিং, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি। লেখার বিষয়টি নির্ভর করে লেখকের দক্ষতা, রুচি, সহযোগিতা সর্বোপরি যে সাইট বা বিষয়ের জন্য লেখা হচ্ছে তার চাহিদার ওপর। তবে বিষয়বস্ত্ত যা-ই হোক না কেনো, একজন ওয়েব কনটেন্ট রাইটারকে কোনো নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে ডাটাবেজ তৈরি করতে হয়। উন্নত বিশ্বে একজন কনটেন্ট রাইটারকে সাংবাদিক বা গবেষক হিসেবেও অভিহিত করা হয়। বিষয়বস্ত্ত অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হয় লাইন অব অ্যাকশন। লেখা অবশ্যই প্রাঞ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে। ওয়েব কনটেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিসোর্স বই, ব্রোশিউর, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারণার কাজে কনটেন্ট ডেভেলপ করা হয়ে থাকে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন:
এটি সর্বত্র পৌঁছে দিতে ব্যাপক মার্কেটিংয়েরও প্রয়োজন হয়। ওয়েবসাইটকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম দিকে নিয়ে আসার যে কৌশল সেগুলোকেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়। দিন দিন বিশ্বব্যাপী যত ওয়েবসাইট বাড়ছে, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজের ক্ষেত্রও অনেক বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও তাই দিন দিন বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ। আর এ হিসেবে ফ্রিল্যান্সার হতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের অন্যতম পছন্দ হতে পারে এ ক্ষেত্রটি। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোর তথ্যানুসারে, একজন দক্ষ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার মাসে ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। প্রয়োজন সঠিক নির্দেশনা, প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং সময়।

ব্লগিং অ্যান্ড অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং:
এর মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্স আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের এ বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিমাসে ১০ হাজার ডলারের ওপরে আয় করছেন এমন বস্নগারের সংখ্যাও বাংলাদেশে রয়েছে। গুগল অ্যাডসেন্স এবং সরাসরি বিজ্ঞাপন স্পেস বিক্রিসহ নানা উপায়ে আয় করতে পারেন একজন বস্নগার। নিজের বস্নগের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পণ্যকে সুপারিশ করেও (রেফার) আয় করার সুযোগ রয়েছে একজন বস্নগারের, যাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়। ইন্টারনেট থেকে ভালো আয়ের ক্ষেত্রে এ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংও একটি উপযোগী মাধ্যম। এ মাধ্যমে আপনি অন্য যেকোনো আয়ের উপায়, যেমন অ্যাডসেন্স থেকেও বেশি আয় করতে পারবেন।

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট:
অনলাইন জগতের একটি বড় অংশ হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট। এই সেক্টরে আমাদের জন্য রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। এর মধ্যে রয়েছে- ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, গেম তরি, বিভিন্ন প্লাগ ইন তৈরি, মোবাইল অ্যাপ তৈরি, সফটওয়্যার প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি। একটি কষ্ট করে কাজ শিখতে পারলে আপনিও এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন।

বিজনেজ সার্ভিসঃ
মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস প্লানিং, বিজনেস কন্সাল্টেশন এর কিছু কাজ পাওয়া যায়। ভাল মার্কেট অ্যানালাইজার হতে পারলে আপনিও এই কাজ করতে পারবেন। এই গুলোই মূলত অনলাইন মার্কেট গুলোর সবচেয়ে কমন কাজ। অনেকে বলে থাকেন এখন নাকি ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটে কাজ পাওয়া যায়না। এটা সম্পূর্ণই ভুল তথ্য। ক্লাইন্ট বিশ্বাস করে কাজ দিত ঠিকই কিন্তু অবশেষে কাজটি করতে না ক্লাইন্ট এর কাছে বাজে ফিডব্যাক পাওয়া যেত।

Leave a Comment